এআর আরিফ, সিবিএন;
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধায় দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়দের নিম্নপদে রাখা, বহিরাগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে বহিরাগতদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। অথচ স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মূল দায়িত্ব স্থানীয়দের ওপর ন্যস্ত হওয়া উচিত। কিন্তু উখিয়া ও টেকনাফসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত।
এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অন্যান্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী (হোস্ট কমিউনিটি) বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও সহায়তা থেকেও প্রায়ই বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল বুধবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তিনি হোস্ট কমিউনিটির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং এনজিওতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
এ সময় এমপি কাজল মহাপরিচালকের হাতে একটি লিখিত আবেদন তুলে দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে BRAC, Caritas Bangladesh, CARE Bangladesh, World Vision Bangladesh, Save the Children, Danish Refugee Council (DRC), Norwegian Refugee Council (NRC), International Rescue Committee (IRC), Action Against Hunger (ACF), Islamic Relief, COAST Foundation, Friendship এবং Muslim Aid Bangladesh-সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।
আবেদনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের মুখে রয়েছে। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
তিনি এনজিওগুলোতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এমপি কাজল বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তারা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং বিপুলসংখ্যক যুবক মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকার সুযোগ পাবেন।
